দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাননি মিশন আচার্য। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন।
এর আগে প্রাথমিকে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার প্রার্থী মিশন আচার্য। স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তা সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে।
রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে মো. রাশেদ খাঁন জানান, ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দুই দিনের সফর শেষে মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।’
শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া রাশেদ খাঁনের একটি চিঠিতেও মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য নিয়োগপত্র হাতে পাননি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় জন্মলগ্ন থেকে মিশন আচার্য বসবাস করছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তিনি ওই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
রাশেদ খাঁন চিঠিতে উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন হিসেবে বড় হয়েছেন মিশন আচার্য। তার মা অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
চিঠিতে মিশন আচার্যের বিষয়ে মানবিক বিবেচনায় বিধি মোতাবেক নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে মিশন আচার্য জানিয়েছিলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপজেলা পর্যায়ে তিনি ১৭তম স্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং অন্যজন তিনি নিজে।
মিশনের দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে খোঁজ নিয়ে তাকে জানানো হয়—তার নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
কেএম